Recents in Beach

ইয়েলো ফিভার, পীত জ্বর - Yellow Fever

 


এটি একটি ভাইরাস ঘটিত (RNA virus) রক্তক্ষরণজনিত মারাত্মক রোগ। আমাদের দেশের কয়েকটি জেলায় এই রোগের উৎপাত। অগণিত লোক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ভবলীলা সাঙ্গ করে। কেননা এলোপ্যাথিতে এই রোগের ভাল চিকিৎসা নাই । না জানার কারণে অনেকেই হোমিও চিকিৎসা নিতে আসেন না। অথচ হোমিও চিকিৎসায় এই রোগ খুব সহজেই নিরাময় করা যায়। সাধারণত এডিস মশার (Aedes aegypti) কামড়ের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। অধিকাংশ কেইস হালকা ইনফেকশান নিয়ে প্রকাশ পায়, জ্বর, মাথাব্যথা, শীতবোধ, পিঠব্যথা, বমিবমি ভাব, খাবারে অরুচি ইত্যাদি সাধারণত তিন-চার দিনের মধ্যেই চলে যায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে শতকরা ১৫ ভাগ ক্ষেত্রে কিছুদিনের মধ্যে পুণরায় জ্বর ফিরে আসে এবং লিভার নষ্ট হওয়ার কারণে সাথে থাকে জন্ডিস এবং পেট ব্যথাও থাকে। তারপর মুখ থেকে চোখ থেকে এবং পাকস্থলী খাদ্যনালী থেকে রক্তক্ষরণ হয়। পেটের রক্ত সাধারণত খাবারের সাথে মিশে বমির সাথে বের হয়, ফলে বমির রঙ হয় কালো (black vomit ) । আর পীত জ্বরের প্রধান লক্ষণই হলো কালো বমি (black vomit)।


Cadmium Sulphuratum : পাকস্থলীর ওপর এই


ঔষধটির একশান দারুন, জ্বালাপোড়া, ছুরিমার, কেটে


ফেলার মতো ব্যথা, সাংঘাতিক ঢেকুর, হেচকি, দম আটকে


আসা, মুখ দিয় আঠালো মিউকাস বের হওয়া, রোগী


চুপচাপ থাকতে চায়, মারাত্মক বমিবমি ভাব এবং বমি


ইত্যাদি লক্ষণ থাকার কারণে এটি ইয়েলো ফিভারে


সাফল্যের সাথে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।


Aconitum Napellus : রোগ যদি হঠাৎ শুরু হয় এবং শুরু থেকেই মারাত্মকরূপে দেখা দেয় অথবা দুয়েক ঘন্টার মধ্যে সেটি মারাত্মক আকার ধারণ করে, রোগী রোগের যন্ত্রণায় একেবারে অস্থির হয়ে পড়ে, রোগের উৎপতি এত বেশী হয় যে তাতে রোগী মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে, রোগী ভাবে সে এখনই মরে যাবে।


Arsenicum Album : রোগীর মধ্যে প্রচণ্ড অস্থিরতা (অর্থাৎ রোগী এক জায়গায় বা এক পজিশনে বেশীক্ষণ থাকতে পারে না। এমনকি গভীর ঘুমের মধ্যেও সে নড়াচড়া করতে থাকে।), শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভীষণ জ্বালা-পোড়া ভাব, অল্প সময়ের মধ্যেই রোগী দুর্বল কাহিল-নিস্তেজ হয়ে পড়ে, রোগীর বাইরে থাকে ঠান্ডা কিন্তু ভেতরে থাকে জ্বালা পোড়া, অতিমাত্রায় মৃত্যুভয়, রোগী মনে করে ঔষধ খেয়ে কোন লাভ নেই- তার মৃত্যু নিশ্চিত, গরম পানি খাওয়ার জন্য পাগল কিন্তু খাওয়ার সময় খাবে দুয়েক চুমুক ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে আর্সেনিক খাওয়াতে হবে।


Bryonia Alba : রোগীর ঠোট-জিহ্বা গলা শুকিয়ে কাঠ


হয়ে থাকে, প্রচুর পানি পিপাসা থাকে, রোগী অনেকক্ষণ পরপর একসাথে প্রচুর ঠান্ডা পানি পান করে, নড়াচড়া করলে রোগীর কষ্ট বৃদ্ধি পায়, রোগীর মেজাজ খুবই বিগড়ে থাকে, কোষ্টকাঠিন্য দেখা দেয় অর্থাৎ পায়খানা শক্ত হয়ে যায়, প্রলাপ বকার সময় তারা সারাদিনের পেশাগত কাজের কথা বলতে থাকে অথবা বিছানা থেকে নেমে বাড়ি যাওয়ার কথা বলে, শিশুদের কোলে নিলে তারা বিরক্ত হয়, মুখে কিছু তিতা লাগে ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে ব্রায়োনিয়া খাওয়াতে হবে।


Carbo Vegetabilis: খাবার পেটের মধ্যে পচে যায়


(মানে হজম হয় না), মারাত্মক ইনফেকশান বা সেপটিক অবস্থা, আলসার, রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত অবস্থা, সাংঘাতিক দুর্বলতা, জ্বালাপোড়া, পেটে এতো গ্যাস হয় যে মনে হয় পেট ফেটে যাবে, গ্যাসের কারণে পেটব্যথা, খুব জোরে ফ্যানের বাতাস চায় ইত্যাদি ইত্যাদি লক্ষণে কার্বো ভেজ প্রযোজ্য।


Crotalus Horridus : পানির মতো একেবারে পাতলা রক্তক্ষরণ এবং হলুদ চামড়া - এই দুইটি লক্ষণ থাকলে ক্রোটেলাস খাওয়াতে পারেন। ক্রোটেলাস পীতজ্বরের একটি সেরা ঔষধ । আবার ইয়েলো ফিভার থেকে বাঁচার জন্যও (prophylactic) প্রতিষেধকক্রোটেলাস খেতে পারেন। আপনার মহল্লায় ইয়েলো ফিভার দেখা দিলে সপ্তাহে এক মাত্রা করে খান, তাহলে আর তাতে আক্রান্ত হবেন না।


Phosphorus: এই রোগীরা খুব দ্রুত লম্বা হয়ে যায় এবং


এই কারণে হাঁটার সময় সামনের দিকে বেঁকে যায়),


অধিকাংশ সময় রক্তশূণ্যতায় ভোগে, রক্তক্ষরণ হয় বেশী,


অল্প একটু কেটে গেলেই তা থেকে অনেকক্ষণ রক্ত ঝরতে


থাকে, রোগী বরফের মতো কড়া ঠান্ডা পানি খেতে চায়,


মেরুদন্ড থেকে মনে হয় তাপ বেরুচ্ছে, একা থাকতে ভয়


পায়, হাতের তালুতে জ্বালাপোড়া ইত্যাদি ইত্যাদি লক্ষণ


থাকলে ইয়েলো ফিভারে ফসফরাস প্রয়োগ করতে হবে।

Post a Comment

0 Comments