Sunday, September 26, 2021

Apis Mell - হোমিওপ্যাথিক ঔষুধ এর উপকারিতা & ঘন ঘন ফোড়া উঠার কারন


 ১। মূত্রস্বল্পতা ও মুত্রকষ্ট। 


২। জ্বালা ও ফোলা, চোখরে নম্নিপাতা ফোলা। 


৩। র্স্পশকাতরতা ও গরমকাতরতা। 


৪। সূচীবদ্ধিবৎ বদেনা। পপিাসাহীনতা। 


# মূলকথাঃ 


১। মৌমাছি হুল ফুটালে যেরূপ জ¦ালা যন্ত্রণা হয়, সেরূপ জ¦ালা যন্ত্রণা, অত্যন্ত স্পর্শকাতরতা, রোগ লক্ষণ সমূহ তীব্য ও দ্রুতবেগে আসে। 


২। সমস্ত শরীরে বা চোখের নিচের পাতায় শোথ বা ফোলা। 


৩। তৃষ্ণার অভাব, ঘামের অভাব, প্রস্রাবের পরিমাণ কম। 


৪। অত্যন্ত বিমর্ষ ও অতি সহজেই কেঁদে ফেলে, যেন না কেঁদে থাকতে পারে না, খিটখিটে স্বভাব, অত্যন্ত ব্যস্ত ও চঞ্চল। 


৫। কোন কাজ করতে গেলে হাতের জিনিস পরে যায়। 


৬। ডিম্বকোষে থেঁৎলানো বেদনা। 


# উপযোগতিা ঃ 


* গন্ডমালাধাতু বশিষ্টি যাদরে গালগলার গ্লাণ্ড ফোল, গ্রন্থি বা গ্লাণ্ড বৃদ্ধি ও শক্ত হয়। সরিাস ক্যান্সার বা খোলা ক্যান্সার যা শক্ত ফাইব্রাস তন্তু থকেে উৎপন্ন। 


* স্ত্রীলোক বিশেষত বিধবাদের উপর্সগ, শিশু ও বালিকা, যদিও সর্তক তবুও সময়ে আপটু হয়ে পড়-ে জিনিষপত্র নাড়াচাড়ার সময় হাত থকেে অজান্তে পড়ে যায় (বোভষ্টিা)। 


# রোগের উৎপত্তি বা কারণ ঃ 


তরুণ উদ্ভদে সর্ম্পূণভাবে দখো না দলিে বা চাপা পড়ার কুফলে (জঙ্কিাম), হাম, স্কারলটে জ্বর, শীতপত্তি, হিংসা, ভয়, রাগ, বিরক্তি, দুঃসংবাদ হতে উৎপন্ন রোগ। 


# মানসিক লক্ষণ ঃ 


* খিটখিটে, স্নায়ুবিক, চঞ্চল-তাকে সন্তুষ্ট করা কঠিন। কাঁদো ভাব-না কেঁদে থাকতে পারে না। সাহসশুন্য হতাশাভাব (পালস)। 


* জাগা বা ঘুমানো অবস্থায় শিশু হঠাৎ জোরে মর্মভেদী চিৎকার করে উঠে (হেলিবো)। 


# শোথঃ 


* চোখের নীচের পাতায় থলির মত ফুলে থাকে (উপর পাতায় ফোলা-কেলি-কার্ব); হাতে পায়ে ফোলা, শোথ কিন্তু পিপাসাহীন (শোথ কিন্তু পিপাসা থাকে-এসিড এসেটিক, এপোসাই)। 


* সর্বাঙ্গীন শোথ ও উদরী রোগে তৃষ্ণা থাকে না (এসিড এসেটিক-যাতে মুখ মোমের মত ফ্যাকাশে ও অত্যন্ত তৃষ্ণা থাকে)। 


# ব্যাথা বেদনাঃ 


* বেদনা জ¦ালাযুক্ত হুল বেঁধার মত, ক্ষতবৎ-হঠাৎ এক জায়গা হতে অন্য জায়গায় সরে যায় (কেলি-বাই, ল্যাক-ক্যা, পালস)। 


* অত্যন্ত স্পর্শানুভূতি (বেল, ল্যাকে)। 


# প্রস্রাবঃ 


প্রস্রাব চাপতে পারে না সেই সাথে মূত্রপথে অত্যন্ত প্রদাহ-এক মূহুর্তও অপেক্ষা করতে পারে না। মূত্রত্যাগের সময় মূত্রপথে গরমে ঝলসে যাওয়ার মত জ¦ালা হয়। প্রস্রাব বারেবারে কিন্তু পরিমাণে অল্প, রক্তাক্ত, যন্ত্রণাদায়ক। 


# কোষ্ঠবদ্ধতাঃ 


যেন পেটে কিছু চাপ বেধে আছে, জোরে চাপ দিলে যেন পেট ফেটে যাবে। 


# উদরাময়ঃ 


চর্মরোগ বা উদ্ভেদযুক্ত রোগে বিশেষত উদ্ভেদ চাপা পড়ে থাকে, মাতালদের একটু নড়াচড়ায় অসাড়ে মলত্যাগ-মনে হয় মলদ্বার যেন খোলা রাখা আছে (ফস)। 


# অবিরাম জ্বরঃ 


শীতভাব আসে বেলা ৩টায় সেই সাথে পিপাসায় (ইগ্নে), গরম ঘরে বৃদ্ধি, উত্তাপে বৃদ্ধি (থুজা-বেলা ৩টায় ও রাত ৩টায় বৃদ্ধি) 


# বৃদ্ধিঃ ঘুমের পর (ল্যাকে), বন্ধ ঘর বিশেষকরে গরম ও উত্তপ্ত ঘর রোগী সহ্য করতে পারে না, পানিতে ভিজে বৃদ্ধি (রাসটক্স) কিন্তু পানিতে শরীর ধৌত করলে ও আক্রান্ত স্থান পানিতে মুছলে উপশম হয়। 


# উপশমঃ খোলা বাতাসে, ঠান্ডা পানিতে গোছলে, গায়ের কাপড় খুলে ফেললে, হাঁটাচলায় ও স্থান পরিবর্তনে, সোজা হয়ে বসলে। 


# সম্বন্ধঃ 


* সাদৃশ্য-স্কারলেট ফিভার ও এলবুমেনযুক্ত প্র¯্রাবে ক্যান্থারিস, ডিজিটালিস, হেলিবোরাস ব্যর্থ হলে এপিস মেল দ্বারা রোগ সেরে যায়। 


* অনুপুরক-নেট-মিউর 


* অনিষ্টকারক-রাসটক্সের আগে বা পরে চলে না। 


* পরবর্তী-এপিসের পর আর্সেনিক ও পালসেটিলা ভাল কাজ দেয়। 


শক্তি-৬, ৩০, ২০০ 


সূত্র-এলেন কিনোটস অব মেটিরিয়া মেডিকা

Tuesday, September 21, 2021

Aesculus Hip (ইস্কুলাস হিপ) Homeopathic Medicine (Homeopathic Pharmacy)
Homeopathic Medicine (Homeopathic Pharmacy)


# নিজস্বকথাঃ 


(১) মলদ্বারে অস্বস্তিবোধ। 


(২) কটিবাত,কোমরে ব্যাথা। 


(৩) পূর্নতাবোধ বা অঙ্গ-প্রতঙ্গে ভারবোধ। 


(৪) বেদনা ভ্রমনশীল। 


# উপযোগিতাঃ 

Homeopathic Medicine (Homeopathic Pharmacy)


১। মলদ্বারে অস্বস্তি বোধ। গুহ্যদ্বারে শুষ্কতা ও তাপ অনুভব এবং মনে হয় যেন কতকগুলি ছোট কাঠি গুহ্যদ্বারে আছে। জ্বালাবোধ, সুচিবিদ্ধবৎ বেদনা, মলদ্বার চুলকাইতে থাকা, মলদ্বারে পূর্ণতাবোধ। 


২। কটিবাত বা কোমর ব্যথা। এতে ত্রিকাস্থির ভেতর দিয়ে নিতম্ব পর্যন্ত বেদনা থাকে। 


৩। অঙ্গ প্রতঙ্গে ভারবোধ বা পূর্ণতাবোধ। 


৪। ভ্রমনশীল বেদনা। সর্বাঙ্গে সঞ্চরণশীল বেদনা - ছুটে চলার মত তীব্র, তীরবিদ্ধবৎ, ছিন্নকর, একস্থান হতে অন্য স্থানে পরিবর্তনশীল বেদনা আছে; এ বেদনা কদাচিৎ গাত্রচর্ম অপেক্ষা গভীরতর স্থানে থাকে, কখন স্নায়ুর উপর দিয়ে চলে বেড়াচ্ছে বোধ হয়। 


৫। অত্যন্ত খিটখিটে, হতাশ, বিষণ্ন, রাগী, আশা শূন্য, অলস, নিস্কিয় ও মদ্যপানাসক্ত ব্যক্তি, বিমর্ষতা, কোপনতা, স্মৃতিশক্তিহীনতা, কাজকর্মে অনীহা। 


৬। গরমকাতর ও কোষ্ঠবদ্ধতা। 


৭। মুখের স্বাদ তেতো, মিষ্ট বা তামাটে, সঙ্গে মুখে লালা। 


৮। ঠান্ডায় ও শীতকালে, সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর, পায়খানার পর, শয়নে, সামনে বাঁকলে, খাওয়ার পর, বিকেলে, দাঁড়ালে, ঋতুস্রাবের পর প্রদরস্রাব, নড়াচড়ায় অর্শের বেদনাতে - বৃদ্ধি। 


৯। গ্রীষ্মে, খোলা হাওয়ায়, গোছলে, হাটু গেড়ে বসলে, ক্রমাগত পরিশ্রমে বা সঞ্চালনে, অর্শের স্রাব হইলে-উপশম। 


১০। নিদ্রার সময়েই খারাপ হয়, এজন্য লক্ষণগুলি জেগে উঠলেই দেখতে পাওয়া যায়। সে মানসিকভাবে 


হতবুদ্ধিতার সাথে জেগে উঠে, সে হতবুদ্ধির মত ঘরের চারদিকে তাকাতে থাকে, দিশাহারা হইয়া পড়ে, লোক চিনতে পারে না, ভেবে আশ্চর্য হয়, কোথায় সে রয়েছে ও সে যে সকল জিনিস দেখছে তার অর্থ কি। 


১১। রোগী ঠান্ডা ও ঠান্ডা বাতাস চায়, যদি ও তাহার রোগ লক্ষণ ঠান্ডায় বাড়ে এবং তাপে উপশম। 


১২। শরীরের নানা স্থানে যেন অধিক পরিমানে রক্ত জমিয়া আছে, এরূপ পূর্ণতাবোধ, উক্ত স্থান ঈষৎ কালো অথবা বেগুনী দেখায়। শৈরিক পূর্ণতা ও দেহের নিম্নশাখা ও সমগ্র দেহকে আক্রমণ করে। 


১৩। শিরাগুলি পূর্ণ, রক্তস্ফীত, কখন ফেটে যাওয়ার মত।এর ক্রিয়া ধীর ও মন্থর। 


১৪। সমস্ত সন্ধিগুলিতে গেঁটেবাত, গেঁটেবাত সংযুক্ত বাতরোগ, স্নায়ুশূল রোগ। এ বাত প্রবণতা বিশেষভাবে কনুই থেকে হাত পর্যন্ত, হাতের সামনের অংশে ও হস্ত তলেই প্রকাশ পায়। এ বেদনা বিদীর্ণকবৎ, ছিন্নকর, সঞ্চরণশীল ও উত্তাপে উপশমিত হয়। 


১৫। গলা জ্বালা, গলায় খোঁচামারা বেদনা ও শুষ্কবোধ, শৌচের পর অর্শের যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়। 


১৬। সামান্য রক্তস্রাব (পুরাতন অবস্থায়) হয় অথবা আদৌ রক্তস্রাব হয় না। 


১৭। লিভারে ও হিময়ডাল শিরায় রক্ত জমা, বেদনা। 


১৮। মৃদু কামড়ানবৎ শির:পীড়া আছে-বোধ হয় যেন মস্তিষ্কটিকে চাপ দিয়ে বের করা হচ্ছে। কিন্তু এ বেদনা বিশেষভাবে মস্তকের পশ্চাৎদিকে অনুভ‚ত হয়, মনে হয় যেন মাথাটিকে পিসিয়ে ফেলা হচ্ছে-গুরুতর কামড়ানবৎ বেদনা, তীব্র কামড়ান বেদনা, মস্তিষ্কে পূর্ণতাবোধ। মৃদু চাপনবৎ যন্ত্রণার সাথে মস্তকে পূর্ণতাবোধ, ডান চোখের উপরে ব্যথা। 


১৯। বারবার অল্প পরিমাণে, ঘোরাল, উষ্ণ প্রস্রাব। মুত্রগ্রন্থিতে ব্যথা, বিশেষত মূত্রাশয়ের বা দিকে মূত্রনালীতে। 


২০। উদগার টক, চর্বির মত, তিক্ত। বমি করবার প্রবৃত্তি। বুকজ্বালা ও আহারের পর খাদ্যদ্রব্য গলায় উঠা। 


২১। ইচ্ছাবৃত্তি মানুষের সর্বাপেক্ষা আভ্যন্তরীন জিনিস। সে যা ইচ্ছা করে তাই তার ইচ্ছাবৃত্তির অন্তর্গত ও ঔষধ পরীক্ষাকালে মানুষের ইচ্ছাবৃত্তির সাথে সম্বন্ধযুক্ত বস্তুগুলিই সর্বাপেক্ষা মূল্যবান। মানসিক বিশৃঙ্খলা বুদ্ধিবৃত্তিরই বিশৃঙ্খলা, অনুভ‚তি রাজ্যের বিশৃঙ্খলা নয়। 


২২। যে সকল ঔষধে শিরার যথেষ্ট উপদ্রব থাকে, তাদের রোগীর সচরাচর গরম পানির গোছলে রোগ বৃদ্ধি হয়, গরম পানি দিয়ে গোছলের পর দূর্বলতা দেখা দেয়, গরম আবহাওয়ায় রোগ বাড়ে, উত্তাপে বিরাগ ও ঠান্ডায় প্রীতিবোধ দেখা যায়। 


২৩। ঋতুর পূর্বে ও ঋতুকালে উদরের নিম্নাঙ্গ ভারী বোধ হয়। এ সময়ে নিতম্ব দেশে ব্যথার সাথে প্রবল 


যন্ত্রণা দেখা দেয় । জরায়ুতে ক্ষতের মত অনুভ‚তি ও কুক্ষিদেশে দপদপানী ব্যথা। 


২৪। সামান্য হুল ফোটান বেদনা উত্তাপে আবির্ভূত হয় এ সব বাহ্যিক যন্ত্রণার বিশেষ লক্ষণ প্রায় 


সর্বদাই উত্তাপে উপশম কিন্তু গভীর রোগগুলি প্রায় ঠান্ডাতেই উপশম। হুল ফোটান যাতনা উত্তাপে ভাল 


থাকে এবং যদিও সময়ে রোগীর বাত ও শৈরিক অবস্থাগুলি ভেজা আবহাওয়ায় বর্ধিত হয় তথাপি সে সচরাচর ঠান্ডাতেই ভাল থাকে। 


২৫। ঋতুস্রাবের পরে প্রদর স্রাব বাড়ে। প্রদর স্রাব ঘন পীত বর্ণ আঠা ও ক্ষতকর। পুরনো প্রদর রোগীর গাঢ় হলদে রংয়ের চটচটে স্রাব পিঠ ও ত্রিকাস্থি থেকে

Monday, September 13, 2021

Calc-Phos (ক্যাল্কে.ফস্): ডা.হাসান মির্জা Homeopathic Medicine (Homeopathic Pharmacy)

 

Homeopathic Medicine (Homeopathic Pharmacy)


১৬.২। Calc-Phos (ক্যাল্কে.ফস্)

#নিজস্বকথাঃ
১। স্ক্রুফিউলা বা ধাতুগত দুর্বলতা ও উদরাময়।
২। মানসিক পরিবর্তনশীলতা।
৩। ঠান্ডায় বৃদ্ধি এবং রোগের কথা মনে পড়লে বৃদ্ধি।
৪। ঋতুকালে মুখমন্ডলে উদ্ভেদ। (অস্থির উপর ভাল কাজ করে।)
#ক্রিয়াক্ষেত্রঃ ডা.হাসান মির্জা
১। অপর নাম- ফসফেট অফ লাইম, ক্যালসিয়াম ফসফেট। ইহা টিস্যু নির্মানে অগ্রগন্য। লবন ব্যতীত সর্বপ্রকার ব্যঞ্জনই যেমন অখাদ্য হয়ে পড়ে, তেমনি এই পদার্থের অভাবে মনুষ্যদেহের প্রতিটি যন্ত্রই অকর্মণ্য হয়ে পড়ে। ঔষধটি এন্টিসোরিক ও এন্টিসাইকোটিক।
২। দেহস্থ অন্ডলালিক পদার্থের কার্যহীনতার কারণে পদার্থটি শরীরস্থ যেকোন দ্বার দিয়ে নির্গত হতে থাকে। যখন নাসিকা থে নির্গত হয় তখন তা সর্দিস্রাব, ফুসফুস পথে কাশিরূপে কফ বা শ্লেষ্মা, মূত্রপথে এলবুমেন আবার কখনোবা চর্মপথে চুলকানি বা ক্ষতরূপে প্রকাশ পায়। সুতরাং স্রাবের চিকিৎসায় কোথায় গাঢ় আর কোথায় পাতলা তা সূক্ষভাবে নিরীক্ষণ করা জরুরী।
৩। রক্তের শে^ত কণিকাগুলিকে লোহিত কণিকায় পরিণত করার পর নতুন শে^তকণিকা তৈরি করে। সুতরাং রক্তে অন্ডলালিকা পদার্থের বিকৃতি ঘটলে, অস্থির অপুষ্টতা হলে এবং রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ কমে গেলে বা অভাবজনিত পীড়ায় ক্যাল্কে. ফস অতুলনীয়। রোগের পুরাতন অবস্থায় এই তিনটি কারণের একটি অবশ্যই বর্তমান থাকবে। তাই শীর্ণদেহী ক্রণিক রোগ ক্ষেত্রে ক্যাল্কে.ফস ব্যবহারে অধিক সুফল মেলে।
৪। এনিমিয়া বা ক্লোরোসিস ইত্যাদি পীড়া যেগুলির কারণে রোগী রক্তহীন ও হীনবল হয়ে পড়ে সেখানেও ক্যাল্কে. ফস আমাদের একমাত্র অবলম্বন। থ্যালাসেমিয়ার শিশুদের পক্ষকাল বা মাসান্তর বাইরে থেকে রক্তের যোগান দিতে হয়। ফুলোফুলো মুখ, ফ্যাকাসে রিক্ত অবয়ব, শীর্ণদেহ, ভীষণ দুর্বল- এমনসব শিশুর জন্য ক্যাল্কে. ফস প্রধান অস্ত্র।
৫। যেসব শিশুর দেহের তুলনায় পেটটি বড়, মাথা বড়, অস্থি পাতলা যেন সামান্য চাপে অস্থি ভেঙে যাবে, মেরুদÐ দুর্বল ও বক্র, মাথার তালুর হাড়টি সহজে জোড়া লাগেনা। শিশু আহার করে প্রচুর কিন্তু দিনদিন শীর্ণ হয়।
৬। শিশুর দুধ সহ্য হয়না, পেট বেদনা, দুধ খাওয়ার পর ছানা কাটা দুর্গন্ধ বমি করে অথচ সর্বদা খাই খাই ভাব। ছানাকাটা বমির জন্য ইথুজা সবার উর্দ্ধে কিন্তু এক্ষেত্রে পার্থক্য হলো শিশু বমি করে তারপরই নিঝুমভাবে ঘুমিয়ে পড়ে।
৭। শিশুর দন্তোদগমনকালীন যাবতীয় পীড়া যেমন- অজীর্ণ, উদরাময়, তড়কা, জ¦র, পেটব্যথা, সর্দিকাশি, ক্ষয়কাশি, ক্রিমি, শয্যামুত্র, অস্থিক্ষত, অস্থিবিকৃতি ইত্যাদি যে কোন পীড়ায় ক্যাল্কে.ফস ভাবতে পারি।
৮। পুঁয়ে পাওয়া বা শীর্ণ শিশুর শরীর গঠন ক্রিয়ায় অপ্রতিদ্বদ্ধ¦ী ঔষধ। শিশু সর্বদা খাই খাই করে অথচ শরীর শুকিয়ে চর্মসার হয়। মেজাজ বড়ই খিটখিটে, পেটটি বড়, জড়বুদ্ধি ভাবাপন্ন। মস্তকটি উষ্ণ, চুলের গোড়ায় কুটকুট করে। শিশুর ঘাড়টি এত দুর্বল যে মাথার ভার বহন করতে পারে না (এব্রোটে), এমনকি চলবার সময় পা টলমল করে। দাঁড়াতে পারেনা, হাঁটা শিখতে দেরী হয় (ক্যাল্কে.কার্ব, সাইলি)। শিশুর নাভি থেকে রক্ত মেশানো রস চুঁইয়ে পড়তে থাকে।(নাভি হতে প্রস্রাব চোয়া-হায়োস।)

৯। স্ক্রোফুলা বা ক্ষয়দোষজনিত শিশু যারা পর্যাপ্ত আহার করা সত্ত্বেও অস্থিপুষ্টির অভাবে দুর্বলতা বশতঃ জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়ে, সর্দিস্রাব লেগেই থাকে, মলত্যাগকালে নানারকম শব্দ হয় এবং ঘাড় বা উদরের মধ্যে গ্রস্থি বৃদ্ধি হয়, দেহ অস্থিচর্মসার হয় তখন ক্যাল্কে. ফস তাদের জন্য উপযুক্ত। ক্যাল্কে.ফস ও সাইলিসিয়া ঔষধদ্বয় স্ক্রুফুলা দোষদুষ্ট। উভয় ঔষধেই শিশুর বৃহৎ সমস্তক, সমÍকের অস্থির হাড়গুলি বিযুক্ত। খিটখিটে মেজাজ। মেরুদন্ডের অস্থি বক্রভাবাপন্ন বা বক্র(থেরিডি)। সাইলিসিয়ার অতিরিক্ত দুর্গন্ধময় পদঘর্ম ক্যাল্কে.ফসে নেই। এমনকি কোষ্টবদ্ধ লক্ষনে সাইলিসিয়ার মত মল খানিকটা বের হয়ে পুনরায় উদরমধ্যে ঢুকে যাওয়া লক্ষণটিও ক্যাল্কে.ফসে নেই। ক্যাল্কে. ফস ও সাইলিসিয়া দুটি ঔষধই মস্তকে ঘাম আছে তবে সাইলিসিয়ার মাথায় অতিরিক্ত ঘাম আর পদতলে দুর্গন্ধময় ঘাম এবং মাথাটিও খুব বড়।
১০। শিশুদের ক্রিমিজনিত উদরশুলে সিনা তারপর ক্যাল্কে.ফস ব্যবহার করুন। শিশুর মল পিচ্ছিল, চটচটে এবং দুর্গন্ধময় এমনকি ক্রিমি লক্ষণটিও প্রবলভাবে বর্তমান থাকে ক্যাল্কে.ফসে। নেট্রাম ফসেও ক্রিমি লক্ষণ, দাঁত কটমট করা এবং অগøগন্ধ আছে। দাঁত কটমট করা লক্ষণটি পেলেই আমরা সিনার কথা ভাবি। ক্যাল্কে. ফস ও সিনা দুটি ঔষধই শিশুর মেজাজ বড়ই খিটখিটে কিন্তু তফাৎ হল ক্যাল্কে. ফস গোস্ত ও লবনপ্রিয় আর সিনা মিষ্টিপ্রিয়। ক্যাল্কে. ফস ও নেট্রাম ফস দুটি ঔষধই বেশ ভোজন করে অথচ শুকিয়ে যায় আবার লবনপ্রিয় কিন্তু নেট্রাম ফস গরমকাতর বলে সর্বদা ঠান্ডা খাদ্য পছন্দ করে আর ক্যাল্কে ফস শীতকাতর তাই ঠান্ডা খাবার পছন্দ করে না। নেট্রামের রোগি সর্বদা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগে আর ক্যাল্কে. ফস-এ উদরাময় বেশি।
১১। বর্ধনশীল শিশুর যে কোন গলার গ্লান্ডের রোগ, টনসিল বৃদ্ধি, গলায় প্রচুর শ্লেষ্মা। অশ্রæপাত। নাসিকার পুরাতন সর্দি। নাকে পলিপাস। শীতলতা। নাক দিয়ে রক্তপাত। দূর্বল স্মৃতিশক্তি। জড়বুদ্ধি। অলস। যক্ষারোগে গয়ারের সঙ্গে রক্ত উঠা। বুকে পুরাতন সর্দি এবং তৎকারণে শ^াসপ্রশ^াসে কষ্ট। স্বরভঙ্গ ও শুষ্ক খকখকে কাশি দিবারাত্র চলতে থাকে।
১২। স্বল্প রক্ত, রঙ কালো, চুল কালো, চোখের মনি কালো, দেহে চর্বি জমা না হয়ে বরং রোগা পাতলা গড়ন, স্নায়ুদুর্বল বিশিষ্ট যুবক-যুবতীদের জন্য ক্যাল্কে.ফস চমৎকার ঔষধ। যে সকল যুবক বা যুবতী প্রথম যৌবনে দ্রæত বেড়ে ওঠে, পনের ষোল বছর বয়সেই বেশ লম্বা ও ছিপছিপে হয়ে ওঠে, অনেকে আবার একটু কোলকুঁজো প্রকৃতির হয়- তারা বিশেষভাবে এই ঔষধটির অধিকারভুক্ত।
১৩। যে সকল কুমারী কন্যারা বয়সের চেয়ে একটু বেশি বৃদ্ধি পায়, পাতলা ছিপছিপে শরীর, পড়াশুনায় মন নেই, মাথাব্যাথা, অস্থিগুলিতে কনকনানি বেদনা, ঋতুকষ্ট, মুখে ব্রণ বা উদ্ভেদ, সাদাস্রাব, কখনো উদরাময় আবার কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য, একটু ঠান্ডা লাগলেই টনসিল বৃদ্ধি, অম্ল ও অজীর্ণদোষ তৎসহ পেটের মধ্যে অতিরিক্ত বায়ুসঞ্চার হয় কিন্তু কিছু আহার করলেই উপশম বা আরাম পায়, গুহ্যদ্বারে যন্ত্রণা বা যন্ত্রণাপূর্ণ অর্শরোগে কাতর- তাদের পক্ষে ক্যাল্কে.ফস অমৃৎতুল্য।
১৪। যতক্ষন রোগী অন্যমনস্ক থাকে ততক্ষণ সে ভালই থাকে কিন্তু রোগের কথা ভাবলেই তার সকল যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়(হেলোনি, এ-অক্সা)। সকল রোগযন্ত্রণা শীতলতায় বৃদ্ধি পায়। অনিচ্ছাকৃত দীর্ঘশ্বাস ফেলে(ইগ্নে)। শোক ও প্রেমে হতাশা থেকে রোগ সৃষ্টি(অরাম, ইগ্নে, এ-ফস)।
১৫। হাড় বা অস্থির উপর ক্যাল্কে.ফস-এর ক্রিয়া অতুলনীয় এবং সর্বপ্রকার অস্থিরোগে এটি অমোঘ। শরীরস্থ অস্থির পোষণ কার্য যদি ঠিকমত না হয় তাহলে সর্বাগ্রে ইহা ব্যবহার করা উচিৎ। সেই কারনে হাড় ভাঙা জোড়া লাগাতে এটি চমৎকার। অস্থিভঙ্গ জনিত ঔষধের মধ্যে সিম্ফাইটামও অসাধারণ। ১৬। বাতবেদনা, বর্ধনশীল যন্ত্রণার ন্যায় অস্থিতে কনকনানি। শীতকালে শুরু, বসন্তে ভাল থাকে, শরৎকালে আবার ফিরে আসে। দেহে জৈব উত্তাপের অভাব, ঠান্ডা ঘাম ও দেহের সর্বাঙ্গে শীতলতার অনুভূতি।
১৭। ভারি জিনিস তুলতে ও পরিশ্রমে পৃষ্ঠবেদনা। মেরুদণ্ডে ছিন্নকর ও সুচিবিদ্ধকর বেদনা, মেরুদণ্ডের কোমলতা ও কনকনানি। টিবিয়া অস্থিতে টানিয়া ধরার ন্যায় বেদনা, হাঁটু ও দীর্ঘ অস্থিগুলিতে প্রবল কনকনানি। হস্তপদের কম্পনসহ বুক ধড়ফড়ানি। বুকে সূচীবিদ্ধবৎ বেদনা। বুকের শীর্ণতা, বুক স্পর্শে চাপবোধ।
১৮। আহারের পর উদরশুল বেদনা, নাভীর চারপাশে ব্যথা ও জ¦ালা। ভগন্দর বা অর্শের বহির্বলি হাঁটলে বা সঞ্চালনে যন্ত্রণার বৃদ্ধি, স্পর্শকাতরতা, মলদ্বারে সুঁচফোঁটা বেদনা। জ¦ালা ও হুলবিদ্ধবৎ বেদনাসহ মলদ্বারের ফাটা। মলত্যাগে সরলান্ত্র ও গুহ্যদ্বার দিয়ে রক্তপাত। বক্ষলক্ষণ সহ মলদ্বারের যে কোন পীড়ায় বার্বারিস বা ক্যাল্কে. ফস বিবেচনা করব। বক্ষ লক্ষণ ও অর্শ লক্ষণ পর্যায়ক্রমিক হ্রাসবৃদ্ধিতে ব্যাসিলিনাম ও ক্যাল্কে. ফস।
১৯। ছাত্র-ছাত্রীদের মাথা যন্ত্রণা(নেট-মি, সোরিন), মৃদু প্রকৃতির শিরঃবেদনায় ক্যাল্কে.ফস চমৎকার সাড়া দেয়। কার্বোভেজও অনুরূপ শিরঃশুলে সমান দক্ষ।
২০। পাকস্থলীর পাকরসে ঔষধটি গভীরভাবে ক্রিয়াশীল। নানারকম অজীর্ণ পীড়ায় সবুজবর্ণ পিচ্ছিল বা হলুদবর্ণ দুর্গন্ধময় তরল ভেদ অধঃবায়ুসহ নির্গত হয় এবং মলত্যাগকালে নানারকম পড়পড় ফড়ফড় শব্দও হয়। লক্ষণগুলি লক্ষ করার মত।
২১।দীর্ঘকাল রোগভোগজনিত কারণে দেহস্থ জলীয় পদার্থের নিঃসরণ কিংবা খাদ্যদ্রব্য সম্যকরূপে সমীকৃত না হওয়ার কারণে রক্তে শে^তকণিকার অভাব হলে ক্যাল্কে. ফস শে^তকণিকা তৈরি করে এনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দূর করে। ডা. হিউজেস বলেন- রক্তে শে^তকণিকার আধিক্য বশতঃ রক্তাল্পতায় ক্যাল্কে. ফস সেবনে উপকার হয়।
২২। পরিপাকযন্ত্রের বিকলতাবশতঃ রক্তস্বল্পতায়, দীর্ঘকাল রোগভোগজনিত কারণে রক্তস্বল্পতায়, রমণীদের পুনঃ পনঃ গর্ভসঞ্চারজনিত রক্তস্বল্পতায়, প্রসব পরবর্তী শীর্ণদেহি নারীর রক্তস্বল্পতায় এমনকি অতিরিক্ত দুগ্ধপানজনিত রক্তস্বল্পতায় ক্যাল্কে. ফস অপ্রতিদ্বদ্বী ঔষধ।
২৩। স্ত্রীজননযন্ত্রের জন্য বিশেষ করে যুবতী কন্যা ও বালিকাদের জন্য ক্যাল্কে. ফস অমৃৎতুল্য। এর বালিকাদের ঋতুস্রাব শীঘ্র শীঘ্র প্রকাশ পায়। স্রাব উজ্জ্বল লাল ও প্রচুর পরিমাণে হয়। আবার স্বল্প ঋতু বা ঋতু না হওয়াও ইনার বৈশিষ্ট্য। বয়স্কা রমণীদের দীর্ঘকাল অন্তর স্রাব হলেও এটি অসাধারণ। শীর্ণদেহী রমণীর উপরোক্ত লক্ষণযুক্ত ঋতু বৈচিত্র্যের চিকিৎসায় ক্যাল্কে. ফস দিয়ে হাতেনাতে ফল পাওয়া যায়।
২৪। ঋতুকালীন কটিস্নায়ুশুল, ঋতুর পূর্বে জননাঙ্গে প্রবল সুড়সুড়িভাব এবং তজ্জনিত প্রবল কাম ইচ্ছা জাগ্রত হলে ক্যাল্কে. ফস চিন্তা করতে পারি। যুবতী কন্যাদের ঋতুর সময় মুখমন্ডল আরক্ত হলে, হস্তপদাদি শীতল হলে ক্যাল্কে. ফস নিরাশ করবে না।
২৫। দুর্বল, কৃশ, সর্দিজ ধাতযুক্ত শীর্ণদেহী কন্যার প্রদরস্রাব ও বাধকবেদনায় সর্বাগ্রে ক্যাল্কে. ফস চিন্তা করুন। দিবারাত্রি ডিমের শে^তাংসের ন্যায় স্বচ্ছ পিচ্ছিল স্রাব আর নিম্নাঙ্গেই অধিক তীরবিদ্ধবৎ ছিন্নকর যন্ত্রণা। ক্যাল্কে. ফস- এর স্রাব স্বচ্ছ ও গাঢ় কিন্তু জলবৎ নয় আর ন্যাট্রাম মিউর- এর স্রাব স্বচ্ছ ও জলবৎ।
২৬। ঋতু অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। ঋতু দেখা দিবার দু-তিন দিন আগে থেকেই ভীষণ যন্ত্রণা। মেয়েদের ঋতুকালে মুখমন্ডলে এক প্রকার উদ্ভেদ প্রকাশ পায়। থুজা ও হায়েসিয়ামাস এরপর ব্যাসিলিনাম দিয়ে ক্যাল্কে.ফস দিলে মুখ পরিস্কার হয়ে যাবে।
২৭।মস্তক বেদনার পর টেরাদৃষ্টি। ডান চক্ষুর ছানিতে। পুরো মেরুদÐ বরাবর যন্ত্রণায় বিশেষ করে কম বয়সিদের জন্য ব্যাসিলিনাম দিয়ে ক্যাল্কে.ফস। ক্যাল্কে.কার্ব এর ঠিক বিপরীত অবস্থা ক্যল্কে.ফস।
২৮। অনুপূরক-রুটা, সমগুণ- কার্ব-এনি, ক্যাল্কে.ফ্লোর, ক্যাল্কে.কার্ব, এ-ফ্লোর, কেলি-ফস।
২৯। তরুন রোগের পরবর্তী অবস্থার দূর্বলতায় সোরিনাম, সাইলিসিয়া। আয়োড, সোরিন, স্যানিকি, সালফ-এর আগে ও আর্সেনিক, আয়োড, টিউবার-এর পরে প্রয়োগে ভাল কাজ দেয়।
৩০। ভেজা, ঠান্ডা ও পরিবর্তিত আদ্র বাতাস গায়ে লেগে, পূর্বদিকের বাতাস লেগে, গ্রীষ্মের শুরুতে যখন বরফ গলতে থাকে, মানসিক পরিশ্রমে রোগের বৃদ্ধি। গ্রীষ্মকালে, গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় রোগের উপশম।
Rhus Tox (রাসটক্স):ডা.এইচ.সি.এলেন Homeopathic Medicine (Homeopathic Pharmacy)
Homeopathic Medicine (Homeopathic Pharmacy)



 ৩৭.২। Rhus Tox (রাসটক্স)

#নিজস্বকথাঃ
১। বর্ষায় বৃদ্ধি ও বিশ্রামে বৃদ্ধি।
২। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে কামড়ানি ও অস্থিরতা।
৩। অস্থিরতায় উপশম, উত্তাপে উপশম।
৪। জিহ্বার অগ্রভাগ ত্রিকোণ লাল বর্ণ ও জ্বরের শীত অবস্থায় কাশি।
#মূলকথাঃ
১। ছিঁড়ে ফেলার মত বা মচকে যাওয়ার মত ব্যথা, স্থিরভাবে শুয়ে বা বসে থাকলে ব্যথা বৃদ্ধি, কিছুক্ষণ নড়াচড়া করলে উপশম।
২। অত্যন্ত অস্থিরতা, বিছানায় একভাবে শুয়ে থাকতে পারে না, এপাশ ওপাশ করে, কারণ নড়াচড়াতে কিছুটা উপশম হয়।
৩। জিহ্বা শুষ্ক, ফাটা ফাটা, জিহ্বার অগ্রভাগ লাল ত্রিকোণাকার বা ত্রিভুজের মত।
৪। পরিশ্রম করা, নৌকা চালানো, সাঁতার কাটা ইত্যাদি বিষয়ে স্বপ্ন দেখে।
৫। জ্বর আসার পূর্বে ও শীত অবস্থায় শুষ্ক কাশি।
৬। গায়ে রসযুক্ত ফুস্কুড়ি বা ফোস্কা উঠে।
#উপযোগিতাঃ
১। বাতের অসুখে ভোগে, পানিতে ভিজে বিশেষতঃ দেহ অত্যাধিক গরম হয়ে তারপর ঠান্ডা পানিতে ভিজে তার কুফলে অসুখ হলে উপযোগী। বিশেষতঃ ফাইব্রাস তন্তু আক্রান্ত হয় (রডো), (সিরাস তন্তু আক্রান্ত হলে- ব্রায়ো), বামদিক হতে ডানদিক বেশী আক্রান্ত হয়।
২। দেহের কোন এক অঙ্গে পেশী বা পেশী বন্ধনী মচকে গিয়ে বা মুচড়ে গিয়ে (ক্যাল্কে.কা, নাক্সভম), ভারী দ্রব্য তুলে বা উপরে রাখা কোন কিছু হাত বাড়িয়ে ধরতে গিয়ে, ভিজের স্যাৎস্যাতে মাটিতে শুয়ে, গরমের দিনে খালে বা নদীর পানিতে অনেকক্ষণ ধরে গোছল করে- তা থেকে রোগ হলে উপযোগী।
৩। ব্যথাযন্ত্রণা: মচকে যাওয়ার মত, পেশী বা পেশী বন্ধনী যেন সন্ধিস্থান হতে ছিঁড়ে গেছে এমন মনে হয়, যেন হাড়গুলোকে ছুরি দিয়ে চেঁচে ফেলা হচ্ছে, মাঝরাতে পরে, ভেজা, বর্ষার দিনে যন্ত্রণা বাড়ে, আক্রান্ত অঙ্গ ছোঁয়া যায় না- টাটানি ব্যথা।
৪। বিশ্রামের পর প্রথম সঞ্চালনে বা সালে ঘুম থেকে উঠে খোড়াতে থাকে, হাত-পা আড়ষ্ট হয়ে থাকে ও যন্ত্রণা হয়, হাঁটা-চলায় বা অবিরত নড়াচড়ায় ঐ ভাব কমে যায় (এক নাগাড়ে নড়াচড়ায় আবার ব্যথা বেড়ে যায়, ক্লান্ত হয়ে পড়ে)
৫। অত্যন্ত অস্থিরতা, উদ্বেগ, ভীতিভাব (একোন, আর্স), বিছানায় একভাবে শুয়ে থাকতে পারে না, যন্ত্রণা হতে উপশমের জন্য অবিরত স্থান পরিবর্তনে বাধ্য হয় (মানসিক উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা থেকে উপশমের জন্য ঐরকম করে-আর্স)। অস্থির- এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকতে পারে না।
৬। পিঠ: কিছু গিলতে গেলে দু’কাঁধের মাঝের ব্যথা করে। কোমরের দু’পাশে ছোট গর্তমত স্থানে যন্ত্রনা ও আড়ষ্টতা, বসলে বা শুলে ঐ ব্যথা বাড়ে, নড়াচড়ায় বা শক্ত জিনিষের উপর শুলে কমে যায়। পেশীবাত ও সায়েটিকা বামদিকে হয় (কলোসিন্থ), হৃদরোগের সাথে বামহাতে কনকনানি ব্যথা।
৭। রাতে অত্যন্ত ভয়, ভয়ভাব, কেউ তাকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলবে এই ভয় হয়- বিছানায় শুয়ে থাকতে পারে না। কঠোর পরিশ্রমের স্বপ্ন দেখে যেমন-দাঁড়টানা, সাঁতার কাটা, দৈনন্দিন কার্যে কঠের পরিশ্রমের কাজ করা ইত্যাদি (ব্রায়ো)।
৮। মাথাঘোরা: উঠে দাঁড়ালে বা হাঁটলে মাথাঘোরে। শুয়ে থাকলে মাথাঘোরা আরো বেড়ে যায় (শুলে কমে- এপিস)। শোয়া অবস্থা থেকে উঠলে বা মাথা ঝুঁকালে মাথাঘোরা বাড়ে (ব্রায়ো)।
৯। মাথাযন্ত্রণা: পা ফেললে বা মাথা ঝাঁকালে মনে হয় যেন মস্তিষ্ক আল্গা হয়ে গেছে, মস্তিষ্কে পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দের অনুভূতি, বোকার মত ভাব হয়। বসে থাকলে, ঠান্ডার মধ্যে শুয়ে থাকলে বাড়ে, গরমে ও নড়চড়ায় মাথাযন্ত্রণার উপশম হয়।
১০। মুখ-গলা শুষ্ক, অত্যন্ত তৃষ্ণা। জিহ্বা শুষ্ক, ঘায়ের মত ব্যথা, লাল কাটাকাটা, জিহ্বার ডগায় ক্রিকোণ লাল ছাপ ও দাঁতের ছাপ পড়ে (চেলিডো, পডো) মুখে ঠোঁটের কোন ঘা হয়, মুখে ও গালে জ্বর ঠোসা বের হয় (নেট-মি)। ১১। সবিরাম জ্বর ও কাশি: শীতাবস্থার আগে ও সময়ে শুষ্ক বিরক্তিকর কাশি, শ্লেষ্মাতে রক্তেরমত স্বাদ, খোলা বাতাস সহ্য হয় না- বিচানার চাদর থেকে হাত বের করলে কাশি শুরু হয় (ব্যারাইটা, হিপার)। তরুণ রোগ টাইফয়েডের আকার ধারণ করলে উপযোগী।
১২। উদরাময়: টাইফয়েডের শুরুতে অসাড়ে উদরাময়, ঐ সাথে অত্যন্ত ক্লান্তিভাব, মলত্যাগের সময় দুপায়ের পিছন দিকে ছিঁড়ে ফেলার মত যন্ত্রণা হতে থাকে।
১৩। পক্ষাঘাত: আক্রান্ত অঙ্গ পানিতে ভিজে বা স্যাৎস্যাতে মাটিতে শুয়ে থেকে, পরিশ্রমের পরে, প্রসবের পর, অতিরক্তি যৌন সম্ভোগের পরে, শরীর ও হাত-পায়ে ব্যথাযুক্ত কম্পন জ্বর বা টাইফয়েডের পর অঙ্গ প্রত্যঙ্গের আংশিক পক্ষাঘাত ও চোখের পাতা ঝুলে পড়ে এসব লক্ষণে উপযোগী।
১৪। চর্মে ইরিসিপেলাস বা বিসর্পরোগ, বামদিক হতে যান দিকে যায়, ফোস্কার মত হয়, হলদে ফোস্কা, ফুলে যায়, অনেক বেশী প্রদাহ হয়, জ্বালা করে, চুলকায়, হুল ফোটার মত যন্ত্রণা হয়। জননেন্দ্রিয়ের বাহিরের দিকে প্রদাহ, ইরিসিপেলাসের মত হয়, ফুলে যায়।
১৫। অনুপূরক- ব্রায়োনিয়া। তুলনীয়- আর্নিকা, ব্রায়োনিয়া, রডো, নেট-সা, সালফার। অনিষ্টকারক- এপিসের সাথে শত্রু সম্বন্ধ, এপিসের আগে বা পরে কখনই ব্যবহার করা চলবে না। রোগের ক্রনিক অবস্থায় উচ্চশক্তি সবচেয়ে বেশী সাফল্য পাওয়া গেছে-হেরিং।
১৬। বৃদ্ধি: ঝড়ের আগে, ঠান্ডা, ভেজা বর্ষার দিনে, রাতে বিশেষতঃ মধ্য রাতের পরে, ঘাম বের হবার সময় ভিজে বা গোছল করে, বিশ্রামের সময়।
১৭। উপশম: গরম, শুষ্ক দিনে, গায়ে ঢাকা দিলে, গরম বা মৃদু গরম দ্রব্যে, নড়াচড়ায়, অবস্থান পরিবর্তনে, আক্রান্ত অঙ্গ নাড়ালে।
১৮। কয়েকটি ক্ষেত্রে বাদে সব উপসর্গ বিশ্রামে শুরু হয় বা বেড়ে যায় ও নড়াচড়ায় কমে যায়। রাসটক্স বিষাক্ততায় জ্বালা ও চুলকানি সিপিয়া প্রায়ই তাড়াতাড়ি কমিয়ে দেয়, কয়েকদিনের মধ্যেই ফুস্কুড়িগুলো শুকিয়ে ফেলে। রাসটক্স বিষাক্ততায় কুফলে শক্তিকৃত রাসের উচ্চশক্তি দ্বারা সেরে যায়, ঐ থেকে উৎপন্ন চর্মরোগ কখনই বাহ্য প্রয়োগের ঔষধ (মলম) দিয়ে চিকিৎসা করতে নেই, এতে রোগ চাপা পড়ে মাত্র কখনই আরোগ্য হয় না।


Selenium (সেলেনিয়াম): ডা.এইচ.সি.এলেন Homeopathic Medicine (Homeopathic Pharmacy)

Homeopathic Medicine (Homeopathic Pharmacy)


 

৪১.২। Selenium (সেলেনিয়াম)

#নিজস্বকথাঃ
১। অতিরিক্ত শুক্রক্ষয় বা অতিদীর্ঘ রোগ ভোগের পর দেহ ও মনের অবসাদ।
২। মলত্যাগকালে শুক্রক্ষরণ।
৩। কামভাবের প্রাবল্য ও শুক্রতারল্য।
৪। স্বরভঙ্গ ও কোষ্ঠকাঠিন্য।
#মূলকথাঃ
১। সর্দি ভালো হয়ে ডায়রিয়া হয়।
২। উত্তাপে বৃদ্ধি, সূর্যোদয় হলে বৃদ্ধি এবং সূর্যাস্ত হলে উপশম।
৩। পায়খানা করতে বসলে অসারে প্রোস্টেটিক ফ্লুয়িড নির্গত হয়।
৪। আহারের পর সর্বাঙ্গে বিশেষত পেটে দপদপানি অনুভূতি, নোনতা খাবার খেতে অনীহা।
৫। রতিক্রিয়ার বিষয়ে সর্বদা চিন্তা করে কিন্তু যৌন অক্ষমতা।
#উপযোগিতাঃ
১। যাদের রঙ ফর্সা, সুন্দর চেহারা অথচ মুখ, হাত-পা, পায়ের পাত বা দেহের কোন একটি অঙ্গ বেশীরকম শুকিয়ে যায় তাদের পক্ষে উপযোগী। বৈষয়িক বিষয়ে ভীষণ ভুলোমন অথচ যা ভুলে গেছে তাই স্বপ্ন দেখে।
২। মাথাযন্ত্রণা: মাতালদের, লাম্পট্য জীবন-যাপনে অভ্যস্ত এমন লোকদের, লেমনেড, চা, মদ অত্যধিক গ্রহণ করে মাথাযন্ত্রণা, যা প্রতিদিন বিকালে হয়। মাথার চুল, ব্রু, দাড়ি, গোঁফ, জননেন্দ্রিয়ের পাশের লোম বা চুল পড়ে যায়।
৩। মানসিক বা দৈহিক পরিশ্রমে, টাইফয়েড বা টাইফাস জ্বরের পরে, লাম্পট্য জীবন যাপনের পরে সহজেই ক্লান্ত, অবসন্ন দূর্বল হয়ে পরে। টাইফয়েড জ্বরের পর মেরুদন্ডে অত্যন্ত দূর্বলতা- যেন পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়বে এই ভয় হয়। আক্রান্ত অঙ্গ শুকাতে থাকে।
৪। শুয়ে থাকার, ঘুমিয়ে পড়া অদম্য ইচ্ছা- দেহের সমস্ত শক্তি যেন শিঃশেষিত, গরমকালে বিশেষতঃ এই অবস্থা হয়। গরম, ঠান্ডা বা স্যাৎস্যাতে যাই হোক না কেন বাতাসের ঝাপ্টা লাগা একান্তই অপছন্দ। মদ খাওয়ার দারুণ ইচ্ছা- না পেলে যেন পাগল হয়ে যাবে।
৫। স্বরলোপ: অনেকদিন ধরে স্বরযন্ত্র চালনা করে, গান শুরু করলে স্বর ফ্যাসফেসে হয়ে যায়, অনবরত গলা পরিষ্কারের জন্য গলা খাকারি দিতে বাধ্য হয়, স্বচ্ছ ভাতের মাড়ের মত শ্লেষ্মা উঠে (আর্জে-মে, স্ট্যানাম), ক্ষয়রোগ হতে স্বরযন্ত্র প্রদাহ এসব লক্ষণে উপযোগী।

৬। কোষ্ঠবদ্ধতা: লম্বা শক্তমল, মল বের হতে চায় না, টেনে বের করতে হয় (এলোজ, ক্যাল্কে-কা, স্যানিকি, সিপিয়া, সাইলি), আন্ত্রিক জ্বরের পরে সাংঘাতিক কোষ্ঠবদ্ধতা এসব লক্ষণে উপযোগী। সর্দি হয়ে উদরাময় দেখা দেয়। রাতে ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে (সিনা, সোরিন)।
৭। প্রসাব: কালচে লাল, পরিমাণে অল্প-অসমান, লাল বালির মত তলানি পড়ে, হাঁটাচলা করলে অসাড়ে ফোটা ফোটা প্রসাব পড়তে থাকে।
৮। ধ্বজভঙ্গ অথচ কামেচ্ছা থাকে, মাথায় অশালীন চিন্তাভাবনা কিন্তু দৈহিকভাবে অক্ষম (হঠাৎ করে ধ্বজভঙ্গ লক্ষণ দেখা দিলে- ক্লোরিণ)। বহুক্ষণ যাবৎ রমন চেষ্টা করলেও লিঙ্গোত্থান ধীরে ধীরে হয়। লিঙ্গ দৃঢ় হয় না, দ্রুত বীর্যপাত হয়, যৌনসঙ্গমের পরে দূর্বল হয়ে পড়ে, মেজাজ ঠিক থাকে না। বসে থাকলে, মলত্যাগকালে, ঘুমের মধ্যে প্রায়ই অসাড়ে বীর্য ও প্রষ্টেট গ্ল্যান্ড হতে নিঃসৃত রস ফোটা ফোটা বের হতে থাকে, গ্রীট বা মুত্রপথে চকচকে লালা স্রাব (ক্যালাডি) এসব লক্ষণে উপযোগী।
৯। সম্বন্ধ: যৌন দূর্বলতায়- ক্যালেডি, নেট-মি, স্ট্যাফি ও এসি-ফসের পরে প্রয়োগ করলে এ ঔষধ ভাল ফল দেয়। জননেন্দ্রিয় ও মুত্রযন্ত্র সংক্রান্ত লক্ষণে- ফসফরাস তুলনীয়। গায়ক ও বক্তাদের স্বরযন্ত্র প্রদাহ লক্ষণে- এলুমিনার সাথে তুলনীয়। পারদ বা সালফারের অপব্যবহারে চুলকানিযুক্ত চর্মরোগ চাপা পড়লে প্রায়ই সেলিনিয়ামের প্রয়োজন হয়।
১০। বৃদ্ধি: বাতাসের ঝাপটা লাগলে, রোদের উত্তাপে, লেমনেড, চা বা মদ খেলে। উপশম: মুখ দিয়ে ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা বাতাস নিলে উপশম।
Opium (ওপিয়াম): গুরুত্বপূর্ণ রুব্রিকসহ

 


৯৩.১। Opium (ওপিয়াম)।

♣ সমনামঃ পপী, অহিফেন, আফিম।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, সাইকোটিক, সিফিলিটিক, টিউবারকুলার।
♣ সাইডঃ ডানপাশ, বামপাশ, ওপরে বামপাশ।
♣ কাতরতাঃ গরমকাতর।
♣ উপযোগিতাঃ শিশু ও বুড়ো যাদের পাতলা চুল, শিথিল মাংসপেশি ও দৈহিক উত্তেজনা থাকে না এরূপ লোকদের পক্ষে উপযোগী।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ মন, অনুভূতি, স্নায়ুবিধান, মস্তিষ্ক, পৃষ্ঠবংশীয় মজ্জা, নার্ভস-ব্রেন, সেরিব্রোস্পাইন্যাল, সিমপ্যাথেটিক, ফুসফুস, শ্বাস-প্রশ্বাস, পরিপাক স্থল, হজম পথ।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ হ্যানিম্যান বলেছেন যে, অন্যান্য সকল ওষুধ অপেক্ষা ওপিয়ামের লক্ষণগুলো সংগ্রহ করা অধিকতর কঠিন কাজ। স্নায়ুমন্ডলের বোধশক্তিহীনতাই এটার প্রধান কাজ।হোমিওপ্যাথি মতে ব্যবহারের জন্য এটার প্রধান লক্ষণ- উদ্যমহীনতা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, ব্যথার অনুভূতিশূন্যতা, জড়তা, অবসাদ এবং প্রতিক্রিয়া শক্তির অভাব। সকল অবস্থাতেই নিদ্রাচ্ছন্নতা এটার বিশেষ লক্ষণ।
♣ ফিজিওলজিক্যাল কাজঃ বেশি মাত্রায় অথবা বার বার সেবনে তন্দ্রা এসে উপস্থিত হয় এবং রোগী সামান্য তন্দ্রা হতে গভীর ঘুমে নিমগ্ন হয়ে পড়ে। আফিমের এ প্রকার তন্দ্রাভাব মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন ক্রিয়ার আধিক্যতা বশতঃ উৎপন্ন হয়ে থাকে। কেবল যে মস্তিষ্কে বেশি রক্ত সঞ্চালন উৎপন্ন করেই এরূপ অবস্হা ( তন্দ্রাভাব) আনয়ন করে তা নয়- রক্ত যথাযথ ভাবে মস্তিষ্ক হতে হৃদপিন্ডে সঞ্চালিত হতে বাধাপ্রাপ্ত বশতঃও হয়।
♣ সারসংক্ষেপঃ প্রতিক্রিয়াহীনতার ও উত্তেজনা প্রবণতার অভাব, বুড়ো,মোটা রক্তপ্রধান ধাতু বিশিষ্ট ব্যক্তি। অর্ধনিমীলিত চোখ ও নিদ্রালুতা। যেনো বাতাসের মাঝে ভেসে বেড়াচ্ছে যেনো মাতাল হয়েছে। মদে, বিছানায় শুলে, চর্মপীড়া ও স্রাব চাপা পড়লে, ভয়, সূর্যাঘাতে, জাগরণে, ঘুমের শুরুতে, সময়ে ও পরে বাড়ে। মুক্ত বাতাসে, আচ্ছাদনে, কফিপানে ও বমিতে কমে। ক্রোধ, মানসিক দুর্বলতা, ঔদাসীনতা, ইন্দ্রিয়শক্তির মন্থরতা, অলসভাব, প্রলাপ, ভ্রান্ত বিশ্বাস, প্রসন্নতা ও রসিকতা। নিদ্রাকালে নাসিকাধ্বনি বা গলার মাঝে ঘড়ঘড় শব্দ। তার শ্রবণশক্তি এতো তীক্ষ্ণ যে দূরবর্তী শব্দেও তার অনিদ্রা দেখা দেয়। ঋতুস্রাবকালে জরায়ুতে অসহনীয় ব্যথা হয়।
♣ অনুভূতিঃ ১) রাতজাগার পর হতে তার মাথায় ঘুম ঘুমভাবের একটি অনূভূতি। ২) নিম্নাঙ্গের বা ঊর্ধাঙ্গের শক্তি বাড়ার অনুভূতি।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) রাগের সাথে পর্যায়ক্রমে আনন্দ। ২) ঘুমাতে গেলে অনাবৃত থাকতে চায়।
< বৃদ্ধিঃ মদ জাতীয় উত্তেজক পদার্থে, নিদ্রাকারক ওষুধে, জাগরণে, ঘুমের শুরুতে, সময়ে ও পরে, নিদ্রাহীনতা হেতু, গরমে, ট্রেনের কামড়ায় বা গাড়িতে, বিছানায় শুলে, স্টোভ বা উনুনের গরমে, সূর্যাঘাতে, রোগের কথা চিন্তা করলে, চর্মপীড়া ও স্রাব চাপা পড়লে, ঘাম হতে থাকলে।
> হ্রাসঃ ঠান্ডায় ক্রমাগত ভ্রমণে, আচ্ছাদনে, মুক্ত বাতাসে, বমিতে, পানি পানে, মলত্যাগের পর, খাদ্য : কফিপানে, ভিনেগারে।
♣ কারণঃ ভয়, নেশা, ক্রোধ, হঠাৎ আনন্দের কারণ, উত্তেজনা, ভীতি, স্রাব নির্গমন বন্ধ হলে, সূর্যে, মদ, সীসা, কাঠ কয়লার গ্যাস বা ধোঁয়া, লজ্জা।
♣ ইচ্ছাঃ মদ, রুটি, মিষ্টি।
♣ অনিচ্ছাঃ মাংস, তামাক।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ অ্যাসি-অ্যাসে, অ্যাসি-মিউর, বেল, ক্যামো, সাইকু, কফি, কুপ্রাম, জেলস, ইপি, মার্ক, নাক্স-ভ, পালস, ভিরেট, জিঙ্ক, কড়া কফিপানে।
♣ এটি ক্রিয়ানাশকঃ বেল, ডিজি, ল্যাকে, মার্ক, নাক্স-ভ, স্টিকনি, প্লাম্বা, স্ট্র্যামো, অ্যান্টি-টা।
♣ প্রয়োগঃ সবিরাম জ্বরের পর্যায়শীল অবস্হায় শীতাবস্হা চলাকালীন পরিমিত মাত্রায় ওপিয়াম প্রয়োগে রোগীর জীবন সংশয়ের সম্ভাবনা থাকে।—– ডা. হ্যানিম্যান।
= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা ওপিয়াম প্রয়োগ করতে পারবো।

#গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুব্রিকঃ (ক্যান্ট রেপার্টরী অনুযায়ী)
১) ক্রোধ : বিরক্তি প্রভৃতি পরবর্তী পীড়া হেতু- A= অ্যাকোন, ক্যামো, ককুল, কলো, ইগ্নে, ইপি, নাক্স-ভ, ওপি, স্ট্যাফি।
২.১) প্রলাপ (Delirium)- A= অ্যাগারি, আর্স, অরাম-ট্রি, বেল, ব্রায়ো, ক্যানা-ই, চেলিডো, হায়োস, ল্যাকে, লাইকো, নাই-অ্যাসি, ওপি, রাস, সিকেলি, স্ট্র্যামো।
২.২) প্রলাপ (Delirium)- ক্রোধোন্মাত্ত,গর্জনশীল- A= অ্যাগারি, বেল, ক্যান্থা, হায়োস, লাইকো, নাই-অ্যাসি,,ওপি স্ট্র্যামো, ভিরেট।
৩.১) ভ্রান্তবিশ্বাস : জীবজন্তু সম্বন্ধে – A= ওপি। B= আর্স, বেল, ক্যাল্ক, সিমিসি, ক্রোটেল, হায়োস, স্ট্র্যামো।
৩.২) ভ্রান্তবিশ্বাস : দেহ বাতাসের চেয়েও হালকা – B= ওপি। C= ল্যাকে, থুজা।
৪) স্বপ্ন দেখে : সুন্দর- A= ওপি। B= ক্যানা-ই।
৫) অলস ভাব: পড়ার সময়- A=অ্যালু, কোনি, ওপি । B= কার্বো-ভে, গ্লোন, ল্যাকে, লাইকো,ন্যাট্র-কা ফস-অ্যাসি, সালফ ।
৬) কল্পনায় ডুবে থাকে : সুখকর – A= ক্যানা-ই, ওপি।
৭) ভয় (Fright) হতে রোগ- A= অ্যাকোন, ইগ্নে, লাইকো, ন্যাট্র-মি, ওপি, ফস-অ্যাসি, ফস, পালস, সাইলি।
৮.১) ঔদাসীনতা,অনীহা,উৎসাহহীনতা (Indifference,apathy,etc.)/: শীতাবস্হায়- A= ওপি,ফস, ফস-অ্যাসি ।
৮.২) ঔদাসীনতা : কোনোরূপ অভিযোগ করে না-
A= ওপি, স্ট্র্যামো। B= হায়োস।
৮.৩) ঔদাসীনতা : জ্বর থাকাকালীন – A= কোনি, ওপি, ফস-অ্যাসি।
৮.৪) ঔদাসীনতা : আমোদ-প্রমোদে- A= হেলি, ন্যাট্র-মি, ওপি, সালফ।
৮.৫) ঔদাসীনতা : কষ্ট সম্বন্ধে – A= ওপি, স্ট্র্যামো।
৯) লাফ দেয় বিছানা হতে- A= চায়না, হায়োস, ওপি, স্ট্র্যামো।
১০) স্মৃতিশক্তি ক্রিয়াশীল ( Memory active)/ তীক্ষ্মবুদ্ধি ( Acuteness) – A= বেল, কফি, হায়োস, ল্যাকে, ওপি।
১১) অশিষ্ট ব্যবহার ( Rudenss)/ উদ্ধত ( Insolent) – A= লাইকো, ভিরেট।
১২.১) সংজ্ঞা তীব্র ( Senses) – A= আর্স, বেল, কফি, নাক্স-ভ, ওপি, ফস।
১২.২) সংজ্ঞা : খর্বতা- A= হেলি, নাক্স-ভ, ওপি।
১৩) রসিক ( Witty) – B= কফি, ল্যাকে, ওপি।
১৪) বেদনার স্বল্পানুভূতি : দেহের অভ্যন্তর দেশে- A= ওপি, প্ল্যাটি।
১৫) বাহ্য অঙ্গের কৃষ্ণবর্ণতা ( Blackness) – A= আর্স, কুপ্রা, মার্ক, ওপি, সিকেলি, ভিরেট।
১৬.১) আক্ষেপ/ খিঁচুনি ( Convulsions) – A= আর্স, আর্টি-ভাল, অ্যাট্রো, বেল, বিউফো, কস্টি, ক্যামো, সাইকু, সিনা, কুপ্রা, হায়োস, লোবে, নাক্স-ম, নাক্স-ভ, ওপি, প্লাম্বা, স্ট্র্যামো, স্ট্রিকনি।
১৬.২) আক্ষেপ: শিশুদের – A= আর্টি-ভা, বেল, সিনা, হেলি, ওপি, স্ট্যামো, ভিরেট, জিঙ্ক।
১৬.৩) আক্ষেপ : ক্ষণিক- A= অ্যাগারি, বেল, বিউফো, ক্যান্থা, ক্যামো, সাইকু, কুপ্রা, হায়োস, লাইসি, ওপি, প্লাম্বা, সিপি, স্ট্র্যামো।
১৬.৪) আক্ষেপ : মৃগীরোগ সদৃশ- উত্তেজনা হেতু- A= হায়োস, ওপি।
১৬.৫) আক্ষেপ : মৃগীরোগ সদৃশ- পেছনের দিকে- A= ওপি, স্পাইজে।
১৬.৬) আক্ষেপ : মৃগীরোগ সদৃশ- ভয় হতে- A= ক্যাল্ক, হায়োস, ইগ্নে, ইন্ডিগো, ওপি।
১৬.৭) আক্ষেপ : মৃগীরোগ সদৃশ- ( শিশুদের ক্ষেত্রে) মা ভয় পাওয়ার ফলে- ওপি।
১৭) নীলকৃষ্ণ রোগ ( Cyanosis) – A= ক্যাম্ফ, কার্বো-ভে, কুপ্রা, ডিজি, ল্যাকে, লরো,ওপি, ভিরেট।
১৮) বুড়ো ব্যক্তি – A= অ্যাম্ব্রা, অরাম, ব্যারা-কা, কোকা, ক্যালি-কা, লাইকো, ওপি, সিকেলি, সেলি।
১৯) বেদনাহীন উপসর্গে বেদনাপূর্ণ ( Painlessness of complaints ususlly painful)
A= হেলি, ওপি, স্ট্র্যামো।
২০) ঘুমের সময়ে বাড়ে (during)- A= আর্নি, আর্স, বেল, বোরা, ব্রায়ো, হিপার, হায়োস, মার্ক, ওপি, পালস, সাইলি।
২১) কাঁপা বাহ্যিকভাবে (Trinbling externally)- A= অ্যাম্ব্রা, অ্যান্টি-টা, আর্জ-নাই, আর্স, সাইকু, ককুল, কোনি, জেলস, ল্যাকে, মার্ক, ন্যাট্র-আর, ওপি, প্ল্যাটি, পালস, রাস, স্ট্যামো, সালফ, থ্যারিডি, জিঙ্ক ।

Petroleum (পেট্রোলিয়াম): গুরুত্বপূর্ণ রুব্রিকসহ

 


৯৪.১। Petroleum (পেট্রোলিয়াম)।

♣ সমনামঃ খনিজ তেল, রক অয়েল, কোল অয়েল।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, সাইকোটিক, টিউবারকুলার, সিফিলিটিক।
♣ সাইডঃ বামপাশ,
♣ কাতরতাঃ শীতকাতর।
♣ উপযোগিতাঃ জৈব উত্তাপের অভাব, শ্লেষ্মাক্ষরণ বর্ধিত, যাদেন চামড়া ও চুল পাতলা, খিটখিটে ও ঝগড়াটে একটুতেই সহজে অপমানিত বোধ করে, সব কিছুতেই রেগে যায় এমন লোকদের অসুখে উপযোগী।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ মাথার পিছন দিকে, চামড়ার ভাঁজ, মাথার চামড়া, মুখ, জননেন্দ্রিয়ের চামড়া, মিউকাস মেমব্রেন, পাকস্হলী, উদর।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ ঘাম বের করা ও বসাময় গ্রন্হিগুলোর ওপর এর কাজ। রোগগুলো শীতকালে বাড়ে। পেট্রোলজাতীয় ধোয়া থেকে সৃষ্ট উপসর্গ: গাড়ি বা জাহাজ চড়ে বেড়াবার ফলে দীর্ঘস্হায়ী পাকাশয়িক ও ফুসফুসের ব্যাধি: পুরাতন উদরাময়। ভয়, বিরক্তি প্রভৃতি মানসিক অবস্হায় পরবর্তী দীর্ঘস্হায়ী রোগ।
♣ সারসংক্ষেপঃ শ্লেষ্মাক্ষরণ বর্ধিত, যাদের চামড়া ও চুল পাতলা, খিটখিটে ও ঝগড়াটে (নাক্স-ভ) একটুতেই সহজে অপমানিত বোধ করে। সন্ধিসমূহের পটপট (কড়মড়) শব্দ। ভারবোধ : বাহ্যিকভাবে ও অভ্যন্তরীণভাবে। প্রাতে, স্হলযান ও জলযান চড়লে, শীতকালে, বাঁধা কপিতে, স্পর্শে, শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমে বাড়ে। গরম ঘরে, গ্রীষ্মকালে, আহারের পর ও সামনের দিকে নত হলে কমে। মনের বিশৃঙ্খল অবস্হা, ক্রোধ, ঝগড়াটে, ভ্রান্ত বিশ্বাস, অস্হিরতা, সময়: অতি ধীরে ধীরে যায়, ভীরুতা। খোলা বাতাসে বিতৃষ্ণা ও পায়ে দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম। হাতের তালুতে গভীর ফাটা। ঘুম ঘুম ভাবের সাথে বা নিদ্রাতুর অবস্হার সাথে হাঁচি হয়। মাথা নিচু করে শুলে বমি বমি ভাবসহ মাথা ঘোরায়।
♣ অদ্ভূদ লক্ষণঃ সন্ধিসমূহের পটপট (কড়মড়) শব্দ, (এই লক্ষণটি কষ্টিকামেও আছে)। পুরাতন বাতে বিশেষতঃ এই লক্ষণটি বর্তমান থাকলে উভয় ঔষধ উপকারী।
♣ অনুভূতিঃ অন্তঃসত্ত্বাবস্হায় পাকস্হলী খালিবোধ।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) শরীর সোজা রাখলে মলদ্বারে সূ্ঁচিবেঁধামতো ব্যথা হয়। ২) হাতের তালুতে গভীর ফাটা।
< বৃদ্ধিঃ প্রাতে, আহারকালে ও পরে, বাঁধা কপিতে, ট্রেনের কামড়ায় বা গাড়িতে, স্হলযান, পোশাকের চাপে, শয্যাতাপে, ঝড়-বৃষ্টির আগে ও সময়ে, শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমে, আলো ও শব্দে।
> হ্রাসঃ গরম ঘরে, শুষ্ক আবহাওয়ায়, খোলা বাতাসে, গরম বাতাসে , মাথা উঁচু রেখে শয়নে (মাথাঘোরা), পূর্ণিমায়, আহারের পর, গ্রীষ্মকালে (চর্মপীড়া), রাতে (আমাশয় ও উদরাময়), ঠাণ্ডা লাগালে, দ্রুত প্রকোপের পর, সামনের দিকে নত হলে (উদরশূল)।
♣ কারণঃ বিরক্তি, গাড়ি বা নৌকা চড়লে, শোক, নাইট্রিক-অ্যাসিড, বাঁধাকপি, চর্মরোগ বসে গেলে, মচকে গেলে।
♣ ইচ্ছাঃ মদ, মিষ্টি।
♣ অনিচ্ছাঃ খোলা বাতাস, চর্বি এবং গরম খাবার, মাংস।
♣ শত্রুভাবাপন্নঃ সিপিয়া।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ অ্যাকোন, ক্যাম্ফ, ককিউ, নাক্স-ভ, ফস।
♣ প্রয়োগঃ যাবতীয় অঙ্গারজাত পদার্থই মাথার পেছন দিক আক্রমণ করে।— ডা. জে. টি. কেন্ট।
= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা পেট্রোলিয়াম প্রয়োগ করতে পারবো।

#গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুব্রিকঃ (ক্যান্ট রেপার্টরী অনুযায়ী)
১) ক্রোধ (Anger) ঃ-খিটখিটে ভাব- অ্যাকোন, অ্যানাকা,আর্স, অরাম, ব্রায়ো, ক্যামো, ইগ্নে ক্যালি-কা,ক্যালি-সাল, লাইকো, ন্যাট্র-মি, নাই-অ্যামি,নাক্স-ভ, পেট্রো,সিপি,স্ট্যাফি, সালফ।
২) মনের বিশৃঙ্খল অবস্হা (Confusion)/ বিহ্বল (Bewildered)/ মনের ছায়াচ্ছন্ন অবস্হা (Cloudiness)/ চিত্ত বিক্ষেপ (Distarction)/ মাতলামি (Intoxication)- A= বেল, ব্রায়ো, ক্যাল্ক, কার্বো-ভে, ককুল, ইউপি, গ্লোনে, ল্যাকে, মার্ক, ন্যাট্র-মি, নাক্স-ম, নাক্স-ভ, ওনোস, ওপি, পেট্রো, রাস, সিপি, সাইলি, স্টিকনি।
৩) ভ্রান্ত বিশ্বাস( Delusions) : A- আর্জ-নাই, বেল, ক্যানা-ই, ককুল, হায়োস, ইগ্নে, ল্যাকে, পেট্রো, ফস-এসিড, স্যাবাডি, স্ট্র্যামো, সালফ।
৪) উত্তেজনাপ্রবণতা (Irritability) – A= অ্যাকোন, অ্যালু, অ্যান্টি-ক্রু, অ্যাপিস, অরাম, বেল, বোভি, ব্রায়ো, ক্যাল্ক, কার্বো-সাল, কস্টি, ক্যামো, গ্র্যাফ, হিপার, ক্যালি-কা, ক্যালি-আই, ক্যালি-সাল, লিলি-টি, লাইকো, ন্যাট্র-কা, ন্যাট্র-মি, নাই-অ্যাসি, নাক্স-ভ, পেট্রো, ফস-অ্যাসি, ফস, প্ল্যাট, পালস, র্যানান-বা, রাস, সিপি, সাইলি, স্ট্যাফি, স্ট্রিকনি, সালফ, সাল-অ্যাসি, থুজা, ভিরেট-ভি, জিঙ্ক।
৫) কলহপ্রিয় (Quarrelsome) – A= অরাম, ইগ্নে, নাক্স-ভ, পেট্রো, সালফ, ট্যারেন্টু।
৬) প্রাতে (Morning) বাড়ে- A= অ্যাগারি, অ্যামন-মি, আর্জ-মে, আর্স-আই, অরাম, ব্রায়ো, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফ্লু, কার্বো-অ্যানি, কার্বো-সাল, কার্বো-ভে, ক্যামো, চেলিডো, সিনা, ক্রোকা, ক্যালি-বাই, ক্যালি-নাই, ল্যাকে, ন্যাট-আর্স, ন্যাট্র-মি, নাই-অ্যাসি, নাক্স-ভ, ওনোস, পেট্রো, ফস-অ্যাসি, ফস, পালস, রডো, রাস, রোমেক্স, সিপি, স্পাইজে, স্কুই, সালফ, ভ্যালের ।
৭) খোলা বাতাসে (Open air) বিতৃষ্ণা – A= অ্যামন-কা, ব্যাপটি, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফস, ক্যামো, ককুল, কফি, ইগ্নে, ক্যালি-কা, ন্যাট্র-মি, নাক্স-ভ, পেট্রো, রুমেক্স, সাইলি, সালফ।
৮) আক্ষেপ: ধনুষ্টংকারবৎ আড়ষ্টতা- A= সাইকু, হাইপেরি, নাক্স-ভ, পেট্রো, প্ল্যাটি, সিপি।
৯) খাদ্য: বাঁধা কপিতে বাড়ে- A= ব্রায়ো, লাইকো, পেট্রো।
১০) ভারবোধ: অভ্যন্তরীণভাবে- A= অ্যাকোন, অ্যালো, বিসমা, ক্যাল্ক, চেলিডো, জেলস, ন্যাট্র-মি, নাক্স-ভ, পেট্রো, ফস, পালস, রাস, সিপি, সাইলি, স্ট্যানা, সালফ।
১১) শ্লেষ্মাক্ষরণ বর্ধিত (Mucous secretion increased) – A=অ্যালি-স্যা,ক্যাল্ক, ডালকা, হাইড্রা, আই, ক্যালি-বাই, ল্যাকে, লাইকো, মার্ক,নাক্স-ভ, পেট্রো, ফস, পালস, সালফ, ট্যাবে।
১২.১) ব্যথা: দংশনকর- কার্বো-ভে, নাক্স-ফস, পেট্রো-সেলি, র্যানান-স্ক্লে, সালফ।
১২.২) ব্যথা: কেটে ফেলার মতো বাহ্যিকভাবে- A= বেল, ক্যাল্ক, কোনি, ড্রসে, ন্যাট্র-কা, পেট্রো।
১২.৩) ব্যথা: অভ্যন্তরীণভাবে লাফালো মতো ব্যথা- A= অ্যাকোন, অ্যাগারি, অ্যালু, অ্যাম্ব্রা, বেল, ব্রায়ো, চায়না, ইগ্নে, ক্যালি-কা, নাই-অ্যাসি, পেট্রো, ফস-অ্যাসি, পালস, সাইলি, সালফ, থুজা।
১৩) ট্রেনের কামড়ায় বা গাড়িতে বাড়ে- A= ককুল, পেট্রো, প্ল্যাটি, সিপি।

Thursday, September 9, 2021

Silicea (সাইলেসিয়া) হোমিও ঔষধ

 


#নিজস্বকথাঃ

(১) দৃঢ়তার অভাব ও শীতার্ততা, কোষ্ঠবদ্ধতা।
(২) মাথার এবং পায়ের তলায় দুর্গন্ধ ঘাম বা বাধাপ্রাপ্ত ঘামের কুফল।
(৩) উত্তাপে উপশম এবং অমাবস্যায় ও পূর্ণিমায় বৃদ্ধি।
(৪) টিকাজনিত কুফল।
#মূলকথাঃ
১। মন দুর্বল, ব্যাকুল ও বিষণ্ন, নম্র ও ভীরু স্বভাব, মানসিক পরিশ্রমে কষ্ট অনুভূতি।
২। লিখতে, পড়তে বা কোন বিষয়ে ভাবতে গেলে রোগী অত্যন্ত ক্লান্তি অনুভূব করে।
৩। নৈতিক ও দৈহিক দৃঢ়তার অভাব।
৪। মলদ্বারে ফিস্টুলা, পায়খানা কষা, প্রচণ্ড কোঁথানি দিতে হয়, কিছুটা পায়খানা বাহিরে এসে আবার ঢুকে যায়।
৫। পায়ের তলায় দুর্গন্ধযুক্ত ঘর্ম, পায়ের ঘর্ম চাপা পড়ে অসুস্থতা।
৬। শিশু বুকের দুধ খেলে মায়ের ভেজাইনা দিয়ে রক্তস্রাব হয়।
৭। গলায় চুল আটকে থাকার অনুভূতি।
#উপযোগিতাঃ
১। একটুতেই নার্ভাস হয়ে পড়ে, খিটখিটে, রক্তপ্রধান ও সোরাদোষ দুষ্ট। হালকা গায়ের রঙ, সুন্দর শুষ্ক চামড়া, ফ্যাকাসে ও দূর্বল মুখাকৃতি, পেশীগুলো শিথিক এমন লোকদের ক্ষেত্রে উপযোগী।
২। যারা অপুষ্টিজনিত অসুখে ভোগে, ঐ অপুষ্টি খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণে বা গুণগত মানের কারণ জনিত নয় বরং পোষণক্রিয়ার অসামঞ্জস্য থেকে হয়ে থাকে (অর্থাৎ হজম হয় না), (ব্যারা-কা, ক্যাল্কে-কা)। দৈহিক ও মানসিক দিকে হতে অত্যানুভূতি সম্পণ্ন।
৩। স্ক্রোফুলাদোষ ও রিকেটদোষদুষ্ট শিশু, যাদের মাথা বড়, মাথার ব্রক্ষ্মতালূ ও হাড়ের জোড়গুলো আলগা হয়ে থাকে, মাথায় প্রচুর ঘাম হয় (তবে ক্যাল্কে-কা হতে অপেক্ষাকৃত মক), কোন কিছু দিয়ে ঢাকা দিয়ে মাথা গরম রাখতে হয়, তলপেট ফুলে থাকে, গোড়ালী দূর্বল, শিশু দেরীতে হাঁটতে শেখে।
৪। অত্যন্ত ক্লান্তি ও দূর্বলতায় শুয়ে পড়তে চায়। স্নায়ুদৌবল্য- স্নায়ুবিক উত্তেজনা হতে দূর্বলতা, কঠোর পরিশ্রমে বা বন্ধস্থানে থেকে অবসন্নতা, তবে ইচ্ছা করলেই অবসন্নতা কাটিয়ে উঠতে পারে।
৫। অস্থি, চঞ্চল, সামান্য শব্দেই চমকে উঠে। উদ্বিগ্ন, সহজেই বশীভূত হয, ভীরু প্রকৃতি। মানসিক পরিশ্রম করতে কষ্ট হয়, লেখাপড়া করলে ক্লান্তি আসে, চিন্তা করা অসহ্য।
৬। পায়ের তলায় ঘাম চাপা পড়ে (কুপ্রাম, গ্রাফাই, সোরিন), মাথায় বা পিঠে সামান্য বাতাসের ঝাপটা লেগে, টীকা দেয়ার কুফলে বিশেষতঃ ফোঁড়া ও খিচুনী হলে (থুজা), পাথর কাটা কাজ করে বুকের অসুখ হলে উপযোগী।
৭। জৈব উত্তাপের অভাব, সবসময় শীত শীতভাব, কঠোর পরিশ্রম বা ব্যয়ামে ঐভাব দূর হয় না (লিডাম, সিপিয়া)।শিশুদের আদর করলেও অবাধ্যতা, একগুয়েমিভাব দেখায়, কাঁদতে থাকে (আয়োডি)।হাঁটুর মালাইচাকির বাতে অব্যর্থ ফলপ্রদ-হেরিং।
৮। শরীরের গ্ল্যান্ডগুলো যথা- ঘাড়ের, বগলের, কানের, স্তনের, কুঁচকির, লোগকুপের গ্রন্থি যা থেকে ঘাম হয় এসবের প্রদাহ হয়, ফোলে ও পূঁজ হয়- এর থেকে মারাত্মক পচনশীল ক্ষত হয়। নরম টিস্যু, অস্থিবেষ্টনী বা হাড়ে পুঁজ হলে আশ্চর্যভাবে এ ঔষধ পুঁজ নিবারন করে। প্রয়োজনে এ ঔষধ পাকিয়ে ফেলতে বা অতিরিক্ত পুঁজসঞ্চয় কমাতে পারে (প্রধানতঃ নরম টিস্যুতে পুঁজ হলে- ক্যালেন্ডু, হিপার)।
৯। মাথাঘোরা: মেরুস্নায়ু হতে উদ্ভুত অনুভূতি যা ঘাড় হতে উঠে মাথা অবধি যায়, উপরদিকে তাকালে যেন সামনে উপুড় হয়ে পড়ে যাবে এমনভাবে মাথাঘোরায় (পালস), (নিচের দিকে তাকালে ঐ রকম মাথাঘোরা- ক্যালমি, স্পাইজি)।
১০। মাথাযন্ত্রণা: ক্রনিক বমনসহ মাথাযন্ত্রণা, যৌবনে কোন মারাত্মক অসুখের পর থেকে মাথাযন্ত্রণা (ঘাড়ের থেকে শুরু হয়ে মাথার উপর অবধি বিস্তৃত, মনে হয যেন মেরুদন্ড থেকে উদ্ভুত হয়ে যেন ডান চোখে স্থিত হয়েছে- সোরিন, বাম চোখে-স্পাইজি)। মাথাযন্ত্রণা খোলা অবস্থায় যদি বাতাসের ঝাপটা লাগে তবে বেড়ে যায়, মাথাটিপে দিলে বা মাথায় গরম কাপড় জড়িয়ে রাখলে (ম্যাগ-মি, ষ্ট্রানশিয়া) ও প্রচুর পরিমাণে প্রসাব হলে কমে যায়।
১১। কোষ্ঠবন্ধতা: প্রতিবার ঋতুস্রাবের আগে ও সময়ে কোষ্ঠবদ্ধতা (ঋতুস্রাবের আগে ও সময়ে উদরাময় হলে- এমন-কা, বোভিষ্টা), মলদ্বারের নিস্ক্রিয়তা থেকে মলত্যাগে কষ্ট, অত্যন্ত কোঁথানি হয়, যেন মলদ্বারে পক্ষাঘাত হয়েছে। মল কিছুটা বের হয়ে আবার ভিতরে ঢুকে যায় (থুজা)। মলদ্বারে অনেকক্ষণ যাবৎ মল আটকে থাকে।
১২। ভগন্দর ও বুকের রোগলক্ষণ পর্যায়ক্রমে দেখা যায় (বার্বে, ক্যাল্কে-ফস)। মলদ্বারের নালীঘা (ফিশ্চুলা)- মলত্যাগের পরে অত্যন্ত ব্যতা করে। দাঁতের গোড়ায় ফোঁড়া বা নানীঘায়ের অপূর্ব ঔষধ-কোপার্থওয়েট।
১৩। শিশু যতবার স্তনপান করে ততবারই যোনিপথে রক্তস্রাব হয় (ক্রোটন)। স্তনের বোঁটা ফানেলের মুখের মত ভিতরে ঢুকে যায় (সার্সা)।যথাসময়ে ঠিকভাবে প্রয়োগে স্তনের ফোঁড়া হওয়া নিবারণ করে-কেন্ট।
১৪। ঘুমের মধ্যে হাঁটে, ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে থাকে আবার শুয়ে পড়ে (কেলি-ব্রো)। চামড়া অস্বাস্থকর, সামান্য আঘাতেই পেকে উঠে, ঘা হয় (গ্রাফাই, হিপার, মার্ক, পেট্রলি), হাত-পায়ের আঙুল বেঁকে যায় (এন্টি-ক্রু)।
১৫। পায়ের পাতায় ঠান্ডা লেগে সর্দি হয় (কোনি, কুপ্রাম)।হাতে ও পায়ের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে, পায়ের তলায়, বোগলে দুর্গন্ধ ঘাম হয। প্রতিদিন সন্ধ্যায় অসহ্য টকগন্ধযুক্ত, গোস্তপঁচা গন্ধের মত পায়ের তলা হতে গন্ধ ছাড়ে অথচ পায়ে ঘা হয় না।
১৬। নেত্রনালী, নখকুনি (ম্যাগ, টিউক্রি), আঙুলহাড়া, রক্তফোঁড়া, কার্বাঙ্কল, সমস্ত প্রকারের ঘা, ফিশ্চুলা হয়ে থাকে- এতে অত্যন্ত ব্যথা, দূর্গন্ধ ছাড়ে, ক্ষতের কিনারাগুলো স্পঞ্জেরমত তুলতুলে, গোস্ত ঠিকরে বের হয়।
১৭। রোগী চুম্বকশক্তির দ্বার পৃষ্ট হতে চায়, এতে আরামবোধ করে (ফস)। শরীরের ভেতর থেকে বাহ্যিক কোন কিছু যেমন- মাছের কাটা, ছুঁচ বা হাড়ের টুকরো বের করতে সাহায্য করে।
১৮। অনুপূরক-থুজা, স্যানিকিউলা। তুলনীয়- হিপার, এসি-পিক, কেলি-ফস, হাইপেরি, রুটা, গেটিসবার্গ, ক্যাল্কে-কা, গ্রাফাই, এসি-নাই। ফসফরাসের পর ভাল খাটে। সাইলিসিয়ার পর হিপার, এসি-ফ্লো, লাইকো, সিপিয়া ভাল খাটে।
১৯। বৃদ্ধি: ঠান্ডায়, ঋতুকালে, অমাবস্যায়, দেহের ঢাকা খুলে ফেললে, শুয়ে থাকলে। উপশম: গরমে, মাথা ঢেকে রাখলে, পাকাশয়ের লক্ষণ বাদে অন্য সব উপসর্গ ঠান্ডা খাদ্যে উপশমিত হয় (লাইকো)।